Tuesday, 15 August 2017

বাবার ডাইরি থেকে

বাবার ডাইরি থেকে #1-১৫ই অগস্ট ১৯৪৭
ঘোষণা তো হয়েছিল এক বছর আগেই। একই দিনে দুইটি দেশ স্বাধীন হবে না। পাকিস্তান স্বাধীন হবে১৪ই আর ঠিক তার পরের দিনই আমরা পেতে চলেছি আমাদের বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। এরপরই এল সেই কালো দিন, “ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে”। তখন আমার কতই বা বয়স, পাঁচ সাড়ে পাঁচ  বড় জোর। তাও বেশ বুঝে গেলাম রায়ট কাকে বলে।
বাড়ির পাশেই তৈরি হল হাওড়া মিলনী ক্লাব। এরকম অনেক ক্লাব তখন রাতারাতি গজিয়ে উঠেছিল হাওড়া শহর জুড়ে। ক্লাবের আড়ালে আসলে প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলা। ক্লাবে রাখা থাকত লাঠি, পেটো। পাড়ার সমর্থ  ছেলেদের প্রতিদিন শরীরচর্চা করা ছিল বাধ্যতামূলক। দাদা, ছোটকাকা, কেলো মামা এরা লাঠি ভাঁজত, ডন বৈঠক করত, আর আমরা হাঁ করে দেখতাম। মহিষাসুরের মত চেহারা ছিল ওদের। পাড়ার বাচ্ছা ছেলে এবং মেয়েদেরও আত্মরক্ষার নানা কৌশল শেখানো হত। সন্টুদা অর্থাৎ সন্তোষ কুমার বোস ছিল আইএনএ ফেরৎ মিলিটারি ম্যান। সন্টুদা আমাদের ড্রিল করাতো। আর ছিল ভীমদা। অ্যানার্কিস্ট মুভমেন্টের সাথে গভীর ভাবে জড়িত ছিল। পরে কম্যুনিস্ট পার্টিতে যোগ দেয়। ভীম দা আমাদের বক্সিং শেখাত। ভজাদা ছিল আইপিটিএর সঙ্গে জড়িত। দারুণ গান গাইতে পারত। আমাদের দেশাত্মবোধক গান শেখাত ভজাদা।
১৯৪৭ এর ১৫ই অগস্ট আসার বহু আগে থেকেই প্রস্তুতি পর্ব শুরু হল। যেমন যেমন গেজেট নোটিফিকেশন বেরোত, বাবা এনে দিত মেজকাকাকে। মেজকাকা ফাইন খাদির কাপড় সেই মাপে কেটে, নির্দিষ্ট গেরুয়া এবং সবুজ রঙে ছুপিয়ে, নিজে হাতে সেলাই করে বানাল তেরঙা। দিনান্তে কাজ সেরে বাড়ি ফিরে, বড় ফ্রেমে সেই তেরঙা পতাকাকে আটকে সুক্ষ্ম নীল রেশমি সুতো দিয়ে স্বহস্তে বানাল অশোকচক্র। অবশ্য মাঝে মাঝে অবসর পেলে মেজো কাকিমাও বসে যেত সূচিকর্মে।
১৪ই অগস্ট সকাল বেলায়, দাদা আর কেলো মামা একটা ঠেলাগাড়ি যোগাড় করে রওনা দিল বালটিকুরির উদ্দেশ্যে। দাশনগর স্টেশন পেরোলেই তখন আলামোহন দাশের ফ্যাক্টরি । আর ফ্যাক্টরির সীমানা ছাড়ালেই ধনী ব্যক্তিদের বৃহৎ বৃহৎ বাগানবাড়ি। সবগুলি বাগান বাড়িই ছিল একই ছাঁচের। আদতে একতলা ছোট একটা সুদৃশ্য বাড়ি আর একটা মর্মরে বাঁধানো বিশাল টলটলে পুকুর। আর এই বাড়ি এবং পুকুরকে ঘিরে ঘণ বাঁশ এবং দেবদারু গাছের নিরাপত্তার স্বার্থে পরিকল্পিত জঙ্গল। ওখানে শুটিংও হত। কাননদেবী ঐ পুকুর থেকেই স্নান করে উঠতেন, বা ঐ জমিদার বাড়িতেই প্রবিষ্ট  হতেন।
দাদা আর কেলো মামা খুঁজে পেতে সবথেকে লম্বা ঋজু বাঁশ আর প্রচুর দেবদারু পাতা কেটে নিয়ে এল। ঐ বাঁশের গায়ে পাটের দড়ি দিয়ে দেবদারু পাতা বাঁধা হল। অতঃপর যখন  তিনতলার ছাতে নিয়ে গিয়ে জানলার সাথে বাঁধা হল মনে হল এক বিশাল হুইস্পারিং দেওদার গাছ দাঁড়িয়ে আছে। দেবদারু পাতার আড়ালে লুকিয়ে তার টেনে বাঁশের মাথায় একটা বাল্ব লাগানো হল। মেজোকাকা বলত, আন্ডা লাইট। বাল্বের একটু নীচে লাগানো হল মেজোকাকার হাতে বানানো কপিকল। তার মধ্যে দিয়ে মেজোকাকা গলিয়ে দিল খুঁজে পেতে ওয়ার ডিসপোজাল থেকে কিনে আনা প্যারাশুটের দড়ি। যেমন মসৃণ তেমনি হাল্কা ছিল সেই দড়ি। সহজে জট পড়ত না। সেই দড়ি দিয়ে ঝোলানো হল তেরঙা।
ঠিক রাত বারোটায় গমগমিয়ে উঠল আকাশবাণী। দেশবাসী সাক্ষী রইল সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জহর লাল নেহেরু দেশবাসীর উদ্দেশ্যে রাখলেন তার ঐতিহাসিক ভাষণ। তারপর, লালাকেল্লা থেকে ধীরে ধীরে নামিয়ে নেওয়া হল ইউনিয়ন জ্যাক আর ধীরে ধীরে উঠতে লাগল আমাদের জাতীয় পতাকা। বাবা ইশারা করল, উঠোনে একসাথে বেজে উঠল একাধিক মঙ্গলশঙ্খ।সেই ধ্বনি গুঞ্জরিত হল দূর দূরান্তে। সব বাড়ি থেকে ভেসে আসতে লাগল শঙ্খধ্বনি।  এতদিন শাঁখ বাজত শুধু শত্রুর আগমন বার্তা জানাতে, শাঁখ বাজলেই পাড়ার সমর্থ পুরুষরা দৌড়ত ক্লাবের উদ্দেশ্যে, লাঠিসোঁটা নিয়ে তৈরি হতে। আর আজ শাঁখ বাজল এই বার্তা নিয়ে যে আমরা স্বাধীন।
পরদিন ভোর সাড়ে পাঁচটার মধ্যে সব অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা মাঠে জড় হল। মেয়েদের পরণে সাদা ফ্রক, পায়ে সাদা কেটস্ আর মাথায় গান্ধী টুপি। আর ছেলেদের পরণে সাদা হাফ প্যান্ট আর সাদা হাফ শার্ট। সন্টুদা সবাইকে লাইনে দাঁড় করালো। সূর্যের প্রথম রোশনির সাথে বাবা পতাকা তুলতে লাগল। বেজে উঠল শৈলদার বিউগল আর অজিতদার কেটল্ ড্রাম, ভজাদার অঙ্গুলির তালে তালে আমরা প্রাণ খুলে গাইতে লাগলাম,“ জণগণমন”। পতপতিয়ে উড়তে লাগল আমাদের তেরঙা।
এরপর? পাড়ার সব সম্পন্ন বাড়ি থেকে চাঁদা দিয়ে আয়োজন করেছিল, সব বাচ্ছা ছেলেমেয়ের হাতে তুলে দিল বাটার পেপারে মোড়া দু পিস বাটার ব্রেড, একটা করে সিদ্ধ ডিম,একটা কলা আর কমলালেবু। হ্যাঁ তখন অগস্টে বেশ ঠান্ডাঠান্ডা আমেজ থাকত, কমলালেবুও পাওয়া যেত। এরপর কয়েকটা লরি বোঝাই করে আমাদের নিয়ে দেশাত্মবোধক গান গাইতে গাইতে হাওড়া শহর পরিদর্শনে বেরোনো হল। জনগণের সে কি উল্লাস। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।
সন্ধ্যাবেলা বাবা, মেজোকাকা, ছোটকাকা, দাদা আর কেলোমামা আমায় নিয়ে পায়ে হেঁটে বের হল বেলিলিয়াস রোডের দিকে। এতদিন এই অঞ্চলে আমাদের প্রবেশাধিকার  ছিল না। রায়টের কারণে বেলিলিয়াস স্কুলও বন্ধ ছিল অথবা অন্য কোথাও সরে গিয়েছিল আজ আর মনে নেই। গলি গলি দিয়ে নরসিংহ দত্ত কলেজের সামনে বেরিয়ে, বেলিলিয়াস রোড ভরে ফাঁসি তলার দিকে চলেছি আমরা। এদিকেও খুশির মেজাজ। কি দারুণ আলোর রোশনাই। সব দোকানপাটের সামনে ভারত এবং পাকিস্তানের পতাকা লাগানো। সবাই আজ ফ্রিতে খাবার দিচ্ছে। অনেক পরিচিত হিন্দু দেখলাম, নো বিফ সেকশন থেকে খাচ্ছেও। কেউ কেউ এসে আমাদের হাতে মিষ্টি ধরিয়ে আদর করে চলে গেল। অবাক হয়ে গেলাম, এরা তো বেশ ভালো মানুষ। আমাদের মতই সাধারণ মানুষ। তাহলে? কেন এত হানাহানি, অহেতুক রক্তপাত?
বাবার ডাইরি থেকে #২

"৭০তম স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিচারণ —

নামটার সাথে আমার বয়সের সংখ্যাটা জুড়ে আছে । আমার পরমাত্মীয়া একমাত্র কন্যা আমার পরমগতির দিনক্ষণ স্থিরিকরণের ব্যাপারে অতিসতর্ক । নিয়মিত  (পশ্চিম) বাংলার সেরা দুই ডাক্তাররের কাছে আমার হাজিরা বাঁধা — দুজন কেন? না আমার হেল্থ রিপোর্ট  ক্রশ চেক করতে হবে যে !

যদিও মালটিপল্ অরগ্যান ফেলিওর , আমার মাথা ছাড়া সর্বাঙ্গই ছুয়ে ফেলেছে, তবুও ডাক্তারবাবুরা যখন উচ্ছাসিত হয়ে বলেন, “এই বয়সে এত ভালো স্বাস্থ্য অসম্ভব, আমরা আগে দেখিনি”— তখন আমি তো খুশি হই-ই,  আমার মেয়ের মুখটাও প্রভাত সূর্য্যের রঙে দেদীপ্যমান  হয়ে ওঠে !

প্রাক স্বাধীনতা যুগের আমার প্রাচীনতম  স্মৃতি হল ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরোক্ষ অভিঘাত । বাড়ি থেকে  পায়েচলা দুরত্বে বৈকুন্ঠ চ্যাটার্জী লেনে তেলিবাড়ীর মাঠে একটা জাপানী বোমা পড়েছিল । ফলে হাওড়ার শিল্পাঞ্চলের ব্যাপক বাসিন্দারা দ্রুত শহরছেড়ে সুদুর গ্রামাঞ্চলে  সরে যায়। আমাদের সম্পুর্ণ পরিবারটা কিন্তু সেই ভূতুড়ে  শহরেই ছিলাম! বাবা/কাকাদের  যুক্তি  ছিল — সসৈন্যে নেতাজী যখন শহরে প্রবেশ করবে , তখন তাঁকে বরণ করার জন্য তো কা‘উকে না কা‘উকে থাকতে হবে !
        ছোটকাকা সাইকেলের সামনে বসিয়ে একদিন বোমা পড়ার জায়গাটা আমাকে দেখিয়ে এনেছিল। এখনকার আন্দাজে বিস্ফোরণের ফলে ৬০‘লম্বা ,৬০‘চওড়া, ৬০‘গভীর একটা ডোবা হয়েগিয়েছিল  মাঠটা।
     যুদ্ধকালীন সময়ে আমাদের খেলাছিল পুরানো খবরেরকাগজ থেকে কেটে কেটে ফিতের মত ফালি তৈরী  করে ময়দা আঠা দিয়ে কাঁচের শার্সিগুলোতে বাঘবন্দী খেলার ঘর আঁকা— যাতে করে বোমার শব্দে কাঁচগুলো স্প্লিন্টারের মত ভেঙে ছড়িয়ে না যায় ।
       আর সকাল বিকাল আমাদের জমিতে কাটা দুটি বিশাল সর্পিল ট্রেন্চের ভেতর নেমে ছোটাছুটি করা ছিল বাচ্ছাদের চরম আনন্দের বিষয় ।

যুদ্ধের শুরুতে আক্ষরিক অর্থে শিশুই ছিলাম,তাই সে হিসাবে ৪০এর মন্বন্তর আর ৫০ লক্ষ নিরন্ন বাঙালির মহানগরীর পথেঘাটে মৃত্যুর  ‘আঁখো দেখা হাল’ কিছু বলতে পারবো না । তবে কর্মক্ষেত্র থেকে বাবা-কাকারা বাড়ি ফিরে যেসব আলোচনা করতো তা শুনে   বুঝতে   পারতাম যাতায়াতের রাস্তায় মৃতদেহে স্তুপ পড়ে থাকতো।
কিন্ত সকাল ৮টার মধ্যেই সামরিক প্রশাসন  ‘ডাম্পার“ দিয়ে মৃতদেহগুলি রাস্তা থেকে চেঁচে তুলে জাতিধর্মনির্বিশেষে গণদাহকার্য্য সম্পাদন  করতো। এদের বলাহত গাদার মড়া । এ কাজের জন্য নির্মিত বিশেষ একধরণের চিমনি  হাওড়ার বাঁশতলা ঘাঠ শ্মশানে অনেক দিন ছিল ।
শোনাকথা ৫০লক্ষ মৃতদেহ দাহ করার জন্য ৫বছর  ২৪ঘন্টা চুল্লিগুলো জ্বলেছিল !
এই সময়টা আমাদের ৩০/৩৫জনের সংসারটাকে খুব একটা খাদ্য-কৃচ্ছতা মধ্যদিয়ে যেতে হয়নি । যুদ্ধের শুরুর প্রথমদিকেই একধরনের বেসরকারী  রেশন ব্যবস্থা চালু হয়। বাবা,মেজকাকা ও ছোটকাকা যে যার কর্মস্থল থেকে ‘ফুল রেশন’ পেতেন ।  এছাড়া আমাদের বসন্তরায়তলা (৭৫) আর বালটিকুরির (২৫) মোট  ১০০বিঘা জমিতে উৎপাদিত মোটা চালের ভাগ পেতাম।
ঘেরা বাড়ির পাকা বিশাল উঠানের পাশে সমপরিমাণ কাঁচামাটির বাগানে দুটি বিশাল উনুন  বানানো ছিল । সাত-সকালে ঘরেবাইরের বাগান-জমি থেকে শুকনো ডাল-পালা পাতা  কুড়িয়ে নিয়ে এসে ও দুটিতে আগুন দেওয়া হত। দুটো বিশাল হান্ডায় টইটম্বুর জল আর পরিমান(কম)  মত খেতের মোটা চাল দিয়ে ফ্যান তৈরি   করা হত । একটা বড় মালশায় থাকতো লবণ ।
সকাল ৮থেকে জীবন্ত  নরকঙ্কালেরদল আর্তকরুণ ক্রন্দনে এসে জমাহত আমাদের সদর দরজার সামনে । ঠাকুমার নির্দেশে বয়স-নির্বিশেষে সবাই পেত এক ডাবুহাতা ফ্যান আর যথেচ্ছ লবণ ।
এ কর্মকান্ড চলতো সকাল ৮থেকে দুপুর ১২টা অবধি কারণ বুভূক্ষু ভিখিরিরাও তখন ‘এথিক্স’ মেনে চলতো — গৃহস্থঘরে সকাল ৮টার আগে ভাতের হাঁড়ি নামে না, আর দুপুর ১২টার  পর ভিক্ষা দেওয়া  অনুচিত !

৮০বছর আগে বাঙালি  মহিলার যথেষ্ট ধর্মপ্রাণ ছিলেন ।  নানা যোগে তাঁরা দলবদ্ধ ভাবে,সূর্য্যোদয়ের আগে গঙ্গাস্নান করে শুদ্ধ(?) হয়ে বাড়ি  ফিরতেন ।  ভোররাত্রে রাস্তায় দলবদ্ধ মহিলাদের পিছনে প্রায়শ বৃটিশ-অ্যামেরিকান-নিগ্রো সেনারা ট্রাক নিয়ে তাড়া করতো। তাঁরা আত্মরক্ষার্থে আসপাশের সরুগলিতে ঢুকে পড়তেন । দু-চার জন ধরাও পড়তো ।
বিবাহবাড়িতে  ফরসা বউএর কোলে কালোছেলে বা কালো বাবার হাতধরে ফরসা মেয়ে দেখলে দাদাশ্রেনীর যুবকরা মুচকি হেঁসে বলতো — “ওয়ার প্রোডাক্ট”।

জমি থেকে সামন্তপ্রভু , কলকারখানা  থেকে পূজিপতির উদ্ভবের কথা আর্থ-সামাজিক  দর্শনে ব্যাক্ষা করা আছে ।  বিশ্বযুদ্ধ  সমাজে ৩য় একশ্রনীর শোষকের জন্মদিল— তারা হল কালোবাজারি । এরাই স্বাধীনতা- উত্তর ভারতের নিয়ামক হয়ে ওঠে ।

পরাধীন  ভারতের শেষ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ  ঘটনা
১) নেতাজীর অন্তর্ধান ও আজাদ হিন্দ ফৌজ। ২) গান্ধীজীর ভারত-ছাড়ো আন্দোলন ।
৩) জিন্নার “লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান”/ডাইরেক্ট অ্যাকশন । 

এসবই একজন শিশুর কানে শোনা বড়দের আলোচনার প্রতিস্মরণ যা ভবিষ্যতে লেখা  ইচ্ছে রইলো !"
(টুকলি করা)

Monday, 7 August 2017

অনির বচন

অনির বচন # ১ ০৭/০৮/০৯
ঠিক যখন আপনি সবথেকে গুরুগম্ভীর মিটিংটিতে বসে বোর হবেন, অথবা উর্ধ্বস্থ কতৃপক্ষ আপনাকে হাত পা নেড়ে বেপোট ঝাড় দিতে উদ্যত হবে, দেখবেন ঠিক তখনই আপনার বন্ধুদের জীবনে সবথেকে মজাদার ঘটনাগুলি ঘটতে থাকবে এবং তারাও অযথা সময় অপচয় না করে তৎক্ষণাৎ তা আপনাকে জানাতে থাকবে। উদ্গত হাই চেপে যদি একটিবার হোয়াটস্অ্যাপ খুলেছেন, তো ঐ যে বলে না “তু শালা কাম সে গ্যায়া। ” না পারবেন হাসতে, না পারবেন হাসি চাপতে। হাসি চাপতে গিয়ে হয় ভয়ানক হেঁচকি  তুলতে বাধ্য হবেন নয়তো প্রবল বেগে নিজেকে চিমটি কেটে রক্তাক্ত করতে উদ্যত হবেন তাও হাসি দমবে না। ফলে মুখটিকে অবিকল প্যাঁচার মত করে বসে থাকবেন এবং ওপরওয়ালা আপনার ঐ চাঁদবদন দেখে বুঝতেই পারবেন,  না তো আপনি ওণার কথা শুনছেন, নাই নিকট ভবিষ্যতে শুনতে ইচ্ছুক। ফলে ঝাড়ের বেগ প্রবল থেকে প্রবলতর হবে।
♥♥পুনশ্চ ইহা মহিলাদের ক্ষেত্রে একটু বেশী মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়।